প্রথম পাতা

মডেল একাডেমী, পাইকপাড়া সরকারী (ডি-টাইপ) কলোনী, মিরপুর-০১, ঢাকা-১২১৬, ফোন-০২-৯০০৯৯৭০

বাণী
প্রধান শিক্ষক
মডেল একাডেমি

পাইকপাড়া সরকারি ডি-টাইপ কলোনীতে অবস্থিত মডেল একাডেমি তার আভিধানিক অর্থে উদ্বুদ্ধ একটি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৭৮ সনে অত্র এলাকার কিছু সমাজ হিতৈষী ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।Shuvashishবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সাথে যে সকল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ জড়িত ছিলেন তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। গতিশীল এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সনে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়ে ঢাকা বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করে। দুই শিফটে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫০০। বর্তমানে ৬৮ জন শিক্ষক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।ঢাকা-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আসলামুল হক এম.পি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আর্থিক অনুদানে নতুন ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শ্রেণি কক্ষের অপর্যাপ্ততার সমস্যা সমাধানসহ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের অভাব দূর হয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্য ৬ তলা নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। ভবনটি নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি নির্মিত হলে অভিভাবকদের Waiting room, বিদ্যালয়ের ক্যান্টিন ও শিক্ষক মিলনায়তনসহ সকল সমস্যার সমাধান হবে।

সহ শিক্ষা র্কাযক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠকে বাস্কেট বল সহ অন্যান্য খেলার উপযোগী করে নতুন আঙ্গীকে সাজানো হয়েছে। শ্রেণী শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলা এবং সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের অগ্রসরমান, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে তাদের লেখা পড়ার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে গড়ে তোলার জন্য চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে । শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরি চালু করা হয়েছে যেখান থেকে শিক্ষার্থী কার্ডের মাধ্যমে বই নিয়ে বাসায় পড়তে পারবে। বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ICT শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে । এর ফলে শিক্ষার্থীরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। বিদ্যালয়ের ১০ টি শ্রেণি কক্ষকে স্থায়ীভাবে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষে উন্নীত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি ও রেজাল্টের সার্বিক তথ্য এসএমএস এর মাধ্যমে অভিভাবকগণকে জানানো হয়।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ‘দেয়াল পত্রিকা’ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। ভর্তি ব্যবস্থা এবং অফিস ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সংযোজন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সকল কর্মকা- সি সি টিভির আওতায় আনা হয়েছে। নিয়মিত অভিভাবক সভার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অবস্থা তুলে ধরা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বনায়নের চেষ্টা চলছে। বিগত দিনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও এস.এস.সি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ে পাশের হার শতভাগ এবং জি.পি.এ- ৫.০০ প্রাপ্তির দিক দিয়ে থানার মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ ও ২০১৮ তে বিদ্যালয় মিরপুর থানার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ৩৫০০ অভিভাবক যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে তাঁদের সন্তানদেরকে আমাদের হাতে অর্পণ করেছেন আশাকরি পরিচালনা পর্ষদ, এলাকাবাসী ও সম্মানিত অভিভাবকসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ২০২০ সনের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। আগামীদিনে বিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে অভিভাবকদের যে কোন পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে। বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটিসহ সকলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

গতবছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন আঙ্গিকে বিদ্যালয়ের বার্ষিকী “কলকাকলী” প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ বার্ষিকী প্রকাশিত হচ্ছে তাদের সকলকে জানাই ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।

শুভেচ্ছান্তে-
শুভাশীষ বিশ্বাস
প্রধান শিক্ষক।