Model Academy, Mirpur

Welcome To Model Academy, Mirpur

Background of Model Academy, Mirpur.Model Academy,Mirpur,Dhaka

Model Academy, Mirpur পঁচিশ বছর অতিক্রম করলো। প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর বয়সকাল দীর্ঘ না হলেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বহু সংঘাত ও জটিলতার মধ্য দিয়ে একালেই অনাগতকালের ভিত্তি নির্মিত হয় আর ভবিষ্যতের অস্তিত্ব সে ভিত্তির উপরই দাড়িয়ে থাকে। তাই পঁচিশ বছর পূর্তি পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের অস্তিত্বের শেকড় কতটা মজবুত তার যথার্থ মূল্যায়ন এবং ফেলে আসা সুসময়-দুঃসময় ও বর্তমান পূর্ণতা-অপূর্ণতার মাপকাঠিতে ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতির রূপকথা আকা ও সম্ভব হবে।

আমার ধারণা রজত জয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানে এসে নবীন ও প্রবীন ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাণ খুলে স্মৃতিচারণ করবে। অতীতের সাথে আজকের যে পার্থক্য তা তারা তুলে ধরবে। অনেকের অনেক স্মৃতি মডেল একাডেমীর সাথে জড়িত আছে। কিছু ভাল-মন্দ, তবুওতো তা স্মৃতি। ছাত্র-ছাত্রীরা আজ যারা এ প্রতিষ্ঠানে আছে, তাদের সামনের দিনগুলো প্রতিভাময় হয়ে উঠুক এ কামনাই করি। আজকের এ যুগ সন্ধিক্ষণে পুরাতন আর নতুনের মিলনে সমৃদ্ধশালী এক নব দিগন্তের সূচনা করবে বলে আমার বিশ্বাস। সমকালীন আধুনিক বিদ্যালয়ের পাদপীঠে মিলনমেলার এ দিগন্ত হোক শক্তিশালী গতিময় ও উজ্জ্বল।

পঁচিশ বছর পর Mirpur Model Academy-র স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমার স্মৃতির পাতায় যে কথাগুলো বারবার দোলা দেয়, তা না বললেই নয়। “বিদ্যাঅর্জন ফরজ” আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৭৮ সালে পাইকপাড়া সরকারী (ডি-টাইপ) কলোনীর যে সমল সমাজ হিতৈষী ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় এবং আমাদের ক’জন শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদানের ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যাপীঠ “মডেল একাডেমী” তাদের মধ্যে জনাব এম. এ. বাসেত, মোঃ গোলাম সারোয়ার, মরহুম মোঃ আজিজুর রহমান প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। তৎকালীন কলোনীর নির্মাণাধীন ৮নং ভবনে নিজের বাসা থেকে আনা মাদুর পেতে মাত্র জনা কয়েক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে মডেল একাডেমী যাত্রা শুরু করি। অতঃপর দিনে দিনে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিদ্যালয়টি প্রথমতঃ প্লে গ্রুপ থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করা হয়। ছাত্র বেতন ধরা হয় মাত্র পাঁচ টাকা। বেতন ছাড়া অর্থের অন্য কোন উৎস ছিলনা। তাই আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা করতে হয়েছে এক নাগাড়ে প্রায় চার বছর। কোন মাসে ব্লাকবোর্ড আর ফাঁকে ফাঁকে প্রায় প্রতিমাসে দু-একখানা করে চেয়ার, বেঞ্চ ও টেবিল তৈরী করা হতো। এভাবে ধীরে ধীরে যখন একাডেমী পূর্ণতা লাভ করছিল, এমনি সময়ে ১৯৮২ সালে একদিন হঠাৎ করে এক দমকা হাওয়ার মতোই পুলিশ বাহিনী এভিকশনের নামে সব চেয়ার-বেঞ্চ বাহিরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে সব তছনছ করে দেয়। স্কুলের জরুরী কাজ সেরে ফেরার পথেই খবরটি পেয়ে প্রায় উন্মাদের মত ছুটে এসে ঐ দৃশ্য দেখে কেন যেন মনের অজান্তে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। আমার এ অবস্থা দেখে তৎকালীন পিডব্লিইডির সহকারী প্রকৌশলী জনাব ফজলুল হক দারুনভাবে মর্মাহত হন এবং প্রতিষ্ঠানের সবরকম সহায়তা করবেন বলে আমাকে আশ্বাস্ত করেন।

অতঃপর নিজের চেষ্টায় তিনি

More of Model Academy, Mirpur.

বিদ্যালয়টি কলোনীর এক নম্বর ভবনে পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করেন। পরে গৃহ নির্মাণ গবেষণা দপ্তরের সার্বিক সহায়তার বর্তমান অবস্থানে স্বল্প মূল্যের গবেষণামূলক নতুন মডেলের এই ভবনটি নির্মানের ব্যবস্থা করেন এবং নির্মাণ শেষে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও পূর্তমন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় ভবনটি উদ্বোধন করে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। জনাব হকের এহেন অবদানের তুলনা হয় না। বিদ্যালয় ভবনটি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অর্থাৎ জুনিয়র হাই স্কুলে উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অর্থাৎ মাধ্যমিক বিদ্যালায়ে উন্নীত ও পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করা হয়। বিগত ১৯৯৮ সাল থেকেই স্কুলের ছেলেমেয়েদের সুবিধার কথা ভেবে পৃথক শিফ্ট করা হয়েছে। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ক্রমে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ষোল শতাধিক হয়েছে। বাড়তি ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান সংকুলানের জন্য বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে এ যাবৎ মোট বারটি বড় বড় শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারী অনুদানে নতুন একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং পরবর্তীতে স্কুলের নিজস্ব অর্থে উক্ত ভবনের ২য় ও ৩য় তলা নির্মাণ করা হয়। এখন ৪র্থ তলা নির্মাণের প্রস্ত্রতি চলছে। ছাত্রছাত্রী বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে Mirpur Model Academy আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।

Comments are closed.